Header Ads Widget

ভোলা-২ আসনে ফজলুল করীমকে বাদ দিয়ে এলডিপিকে সমর্থনের গুঞ্জন: জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

 

ফজলুল করীম ও মোকফার উদ্দিন


ভোলা প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে জোটগত রাজনীতির সমীকরণে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সক্রিয় থাকা জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি ফজলুল করীমকে মনোনয়ন না দেয়ার গুঞ্জনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী তাদের শরিক দল এলডিপি-কে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার অংশ হিসেবে সোমবার (আজ) ভোলা-২ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি ফজলুল করীমকে মনোনয়ন না দেয়ার গুঞ্জন উঠে । অথচ একই জেলায় ভোলা-১ ও ভোলা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্র।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, ভোলা-২ আসনে শরিক দল হিসেবে এলডিপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোকফার উদ্দিন (মাহে আলম চৌধুরী)-কে জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিতে পারে জামায়াত। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, মুফতি ফজলুল করীম গত তিন মাস ধরে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে 'শরিক দল' কোটায় অন্য প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় এক কর্মী বলেন, "আমরা দিনের পর দিন মাঠে কাজ করেছি ফজলুল করীম সাহেবের জন্য। এখন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বদলের যে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তাতে সাধারণ ভোটারদের কাছে আমরা মুখ দেখাতে পারছি না। এটি দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।"


শেষ পর্যন্ত ভোলা-২ আসনে জামায়াত তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত বহাল রাখে নাকি তৃণমূলের আবেগের মূল্যায়ন করে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ